খিলক্ষেতে ঝুঁকিপূর্ণ ফুটওভার ব্রিজ মেরামতে ৭ দিন সময় দিল এলাকাবাসী

রাজধানীর খিলক্ষেতে লো মেরিডিয়ান হোটেলসংলগ্ন ঝুঁকিপূর্ণ ফুটওভার ব্রিজ মেরামতের দাবিতে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছেন এলাকাবাসী। এ সময় তাঁরা এক সপ্তাহের সময়সীমা বেঁধে দেন। এ সময়ের মধ্যে ফুটওভার ব্রিজটি মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া না হলে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধসহ কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

শনিবার ( ১১ অক্টোবর ) বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ‘খিলক্ষেত ও নিকুঞ্জের সর্বস্তরের জনগণের’ ব্যানারে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

মানববন্ধনে খিলক্ষেত টানপাড়া কল্যাণ সোসাইটির আহ্বায়ক জাহিদ ইকবাল বলেন, ‘দুই মাসে আগে একটি লরির আঘাতে এই ব্রিজের ব্যাপক ক্ষতি হয়। সে সময়ই আমরা বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। কিন্তু কর্তৃপক্ষের কোনো টনক নড়ছে না। এখন বৃষ্টির কথা বলে কালক্ষেপণ করা হচ্ছে। কোনো উপায় না দেখে আজ রাজপথে মানববন্ধন করছি।’

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর খিলক্ষেত থানার শুরা ও কর্মপরিষদ সদস্য মো. জাকির হোসেন ভূঁইয়া বলেন, ‘ফুটওভার ব্রিজটি চলাচলের জন্য পুরোপুরি অনুপযোগী। দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহারের কারণে এটি লক্কড়ঝক্কড় হয়ে গেছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। আমরা ব্রিজটির উন্নয়নকাজের জন্য এক সপ্তাহ সময় দিচ্ছি। এ সময়ের মধ্যে কাজ না হলে আমরা মহাসড়কে নামব। রাস্তাঘাট বন্ধ করে দেব।’

স্বপন রানা নামের আরেক বাসিন্দা বলেন, ‘ব্রিজটি এখন মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। বহুবার দরখাস্ত করেছি। তাঁরা এসেছেন, ছবি তুলেছেন। কিন্তু কোনো কাজ হয় নাই। ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজের কারণে যদি কোনো দুর্ঘটনা ঘটে, তাহলে এর দায়ভার সরকারকেই নিতে হবে।’

মানববন্ধনে পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরেন খিলক্ষেত ও নিকুঞ্জের মানুষ।

দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—ফুটওভার ব্রিজ অবিলম্বে সংস্কার ও পূর্ণাঙ্গ পুনর্নির্মাণ; ব্রিজের সম্প্রসারণ রেললাইন পর্যন্ত বৃদ্ধি; প্রশস্ত প্রবেশপথ, ছাউনি ও নিরাপদ অপেক্ষা স্থান তৈরি; প্রতিবন্ধী, শিশু ও প্রবীণ নাগরিকদের জন্য র‍্যাম্প বা লিফটের ব্যবস্থা এবং পর্যাপ্ত আলো, সিসি ক্যামেরা ও স্থায়ী রক্ষণাবেক্ষণ দল রাখা।