দেশের লাইফ বীমা কোম্পানি সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসি ২০২৫ সালে গ্রাহকদের ৪০৫ কোটি ১৫ লাখ টাকার বীমা দাবি পরিশোধ করেছে। একই বছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের ১৫ শতাংশ লভ্যাংশ দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে কোম্পানিটি।
২০২৫ সালে সোনালী লাইফ মোট ৫৫ হাজার ৩০০টি বীমা দাবি নিষ্পত্তি করেছে। বীমার মেয়াদ শেষ হওয়া বা চুক্তির শর্ত অনুযায়ী টাকা পাওয়ার যোগ্য গ্রাহক ও তাদের পরিবারের দাবির বিপরীতে এই অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে।
সম্প্রতি রাজধানীর মালিবাগ চৌধুরীপাড়ায় সোনালী লাইফের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের সভায় ২০২৫ সালের জন্য ১৫ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করা হয়।
দেশের বীমা খাতে সময়মতো দাবি পরিশোধ না হওয়া নিয়ে গ্রাহকদের অভিযোগ ও উদ্বেগ রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সোনালী লাইফ জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠার পর থেকে তাদের দাবি নিষ্পত্তির হার ১০০ শতাংশ। কোম্পানির হিসাবে, পরিশোধযোগ্য কোনো বীমা দাবি অনিষ্পন্ন নেই।
তিন বছরে বেড়েছে দাবি পরিশোধ
কোম্পানির দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে সোনালী লাইফ ১২৪ কোটি টাকার বেশি দাবি পরিশোধ করে। ২০২৪ সালে তা বেড়ে ৩৮০ কোটি টাকা হয়। আর ২০২৫ সালে দাবি পরিশোধের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪০৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা।
চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত প্রায় ২৫৯ কোটি টাকার বীমা দাবি নিষ্পত্তি করেছে বলে জানিয়েছে কোম্পানিটি।
সোনালী লাইফ বলছে, গ্রাহকের দাবি দ্রুত পরিশোধ করতে প্রযুক্তির মাধ্যমে তথ্য যাচাই এবং কাগজের ব্যবহার কমানো হয়েছে। এতে গ্রাহকের পাওনা দ্রুত পরিশোধ করা সহজ হচ্ছে।
চতুর্থ প্রজন্মের কোম্পানিগুলোর মধ্যে শক্ত অবস্থান
কোম্পানির দেয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশের চতুর্থ প্রজন্মের বীমা কোম্পানিগুলোর মধ্যে দাবি নিষ্পত্তি, মোট ও নবায়ন প্রিমিয়াম সংগ্রহ, লাইফ ফান্ড এবং বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সোনালী লাইফ শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে।
প্রিমিয়াম হলো বীমা চালু রাখতে গ্রাহক নির্দিষ্ট সময় পরপর যে টাকা কোম্পানিকে দেন। আর লাইফ ফান্ড হলো জীবন বীমা কোম্পানির একটি গুরুত্বপূর্ণ তহবিল, যা ভবিষ্যতে গ্রাহকের বীমা দাবি ও অন্যান্য দায় পরিশোধের সক্ষমতার সঙ্গে সম্পর্কিত।
ছয় বছরে ৮৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ
সোনালী লাইফের পরিচালক শেখ মোহাম্মদ ড্যানিয়েল বলেন, একটি বীমা কোম্পানির জন্য গ্রাহকের আস্থা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। দ্রুত দাবি পরিশোধ, সুশাসন এবং গ্রাহকসেবার মাধ্যমে সেই আস্থা ধরে রাখার চেষ্টা করছে কোম্পানি।
তিনি জানান, ২০২০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত সোনালী লাইফ মোট ৮৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে ও অনুমোদন করেছে। এর মধ্যে ২০২৫ সালের জন্য ঘোষিত ১৫ শতাংশ লভ্যাংশও রয়েছে।
কোম্পানিটি বীমার আবেদন ও ঝুঁকি যাচাইয়ের কাজ দ্রুত করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এবং ওসিআর প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে। ওসিআর প্রযুক্তির মাধ্যমে কাগজে থাকা তথ্য ডিজিটাল তথ্যে রূপান্তর করা যায়। এতে গ্রাহকের তথ্য যাচাই সহজ ও দ্রুত হতে পারে।
দেশজুড়ে ২৫৬টি শাখা
সোনালী লাইফ বর্তমানে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ২৫৬টি শাখা অফিসের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
কোম্পানিটির ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, “সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স শুধু একটি বীমা কোম্পানি নয়; মানুষের আর্থিক নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় এটি একটি নির্ভরযোগ্য অঙ্গীকার। দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির মাধ্যমে দেশের বীমা খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।”
তিনি জানান, গ্রাহকের বীমা দাবি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য আলাদা সহায়তা দল এবং অভ্যন্তরীণ যাচাই ব্যবস্থা রয়েছে।
প্রযুক্তি ও ব্যাংকাস্যুরেন্সে গুরুত্ব
প্রযুক্তিনির্ভর সেবা বাড়ানোর পাশাপাশি ব্যাংকাস্যুরেন্সের মাধ্যমে আরও বেশি মানুষের কাছে বীমাসেবা পৌঁছে দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সোনালী লাইফের।
ব্যাংকাস্যুরেন্স হলো ব্যাংকের মাধ্যমে বীমা পলিসি বিক্রির ব্যবস্থা। এতে একজন গ্রাহক ব্যাংকের মাধ্যমে বীমা পলিসি কিনতে পারেন।
কোম্পানিটি গ্রাহকদের কাছ থেকে পাওয়া প্রিমিয়ামের একটি অংশ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ করে। এসব বিনিয়োগ থেকে পাওয়া আয় কোম্পানির আর্থিক সক্ষমতা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতে গ্রাহকের দাবি পরিশোধে সহায়তা করে।
দেশের বীমা খাতে গ্রাহকের আস্থা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। নিয়মিত প্রিমিয়াম দেয়ার পর প্রয়োজনের সময় গ্রাহক তার প্রাপ্য টাকা সময়মতো পাবেন, এই নিশ্চয়তা বীমার প্রতি আস্থা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ।
সোনালী লাইফ বলছে, দ্রুত দাবি পরিশোধ, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং আর্থিক সক্ষমতা বাড়িয়ে গ্রাহকের আস্থা ধরে রাখাই তাদের লক্ষ্য।
















